
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এবার সরাসরি উদ্বেগ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন- বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তাকে ব্যথিত করেছে এবং বহু দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে জানান, ভারত যেকোনোভাবে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। হিন্দুস্তান টাইমস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মোদির এই প্রতিক্রিয়া শুধু মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষত এমন এক সময়ে, যখন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে-বাইরে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
এদিকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা করতে পাঁচ সদস্যের একটি চীনা চিকিৎসক দল ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। তারা সোমবার বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছায়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আল মামুন জানিয়েছেন- এটি প্রাথমিক টিম; মূল বিশেষজ্ঞরা পরদিন হাসপাতালে পৌঁছাবেন। চীনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতার আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং প্রতিটি মুহূর্তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিন্ন ভিন্ন খবর নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন- অফিসিয়াল মেডিক্যাল টিম যা জানাবে, সেটিই গ্রহণযোগ্য তথ্য।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও সবাইকে গুজব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন- এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে আগের মতোই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে এবং সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞরা তার পাশে রয়েছেন।
ভারত ও চীনের আগ্রহ, আন্তর্জাতিক মহলের নজর, এবং বিএনপি নেতৃত্বের নিয়মিত আপডেট- সব মিলিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকে ঘিরে পরিস্থিতি এখন শুধু চিকিৎসাগত নয়, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের প্রতিটি মহলই এখন অপেক্ষায়- তার সুস্থতা সম্পর্কিত পরবর্তী আনুষ্ঠানিক মেডিকেল বুলেটিনের জন্য।